বদনজর থেকে বাঁচতে যে দোয়া ও আমল করবেন

বদনজর সত্য । এটি কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। মানুষ জীবনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা দ্বারা সেগুলোর একটা হলো বদনজর। মানুষের উপর বিভিন্ন কারণে বদনজর পতিত হয়। বদনজর শুধু মানুষের উপর পড়ে তা নয় বরং এটি প্রাণীদের উপর‌ও পড়ে। এটি দোকান, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বস্তুর উপর‌ও পড়ে।

বদনজর শুধু মানুষের পক্ষ থেকে হয় এমনটি নয়, বরং জিনদের পক্ষ থেকেও বদনজর হয়ে থাকে।বদনজর মানে হলো, কিছু একটা দেখে মুগ্ধ, বিস্মিত হ‌ওয়া এবং বরকতের দোয়া না করা। এতে সহজেই বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হয় শিশুরা। তবে বড়রাও এ থেকে মুক্ত নয়।মানুষের জীবন, জীবিকা, চরিত্র, যোগ্যতা, সৌন্দর্য ইত্যাদি সবকিছুর উপরেই বদনজর পড়ে। তাই সবার উচিত বদ নজর থেকে বাঁচতে কুরআনি আমল ও দোয়া পড়া।

বদনজর থেকে বাঁচতে কুরআনি আমল:

বদনজর থেকে বাঁচতে নিয়মিত এই কুরআনি আমলগুলো করা যেতে পারে। নিয়মিত কুরআনি আমলে আল্লাহ তাআলা বদনজর থেকে হেফাজত করবেন। আর তাহলো- সম্ভব হলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর।অন্তত সকালে ও সন্ধ্যায় পড়বেন।


> সুরা ফাতিহা (একবার)

> আয়াতুল কুরসি পড়া (সুরা বাকারা, আয়াত ২৫৫)(একবার)

> সুরা বাকারার শেষের দুই আয়াত (২৮৫ ও ২৮৬)(একবার)

> সুরা ইখলাস (তিনবার)

> সুরা ফালাক্ব (তিনবার)

> সুরা নাস (তিনবার)

বদনজর থেকে বাঁচার মাসনুন দোয়া:

أعُوذُ بِكَلِماَتِ اللهِ التاَّمَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطاَنٍ وَهاَمَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্বানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লিআম্মাতিন।’

অর্থ : ‘আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে শয়তানের সব আক্রমণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। বিষধর প্রাণীর ও বদনজরকারীর অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।’ (বুখারি)


সকালে ও সন্ধ্যায় নিচের দোয়াটি তিন বার করে বলবেন।
যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এবং বিকালে তিনবার এটি বলবে, কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।

بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهٖ شَيْءٌ فِي الْاَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاۤءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।”

বিস্‌মিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদ্বুররু মা‘আস্‌মিহী শাইউন ফিল্ আরদ্বি ওয়ালা ফিস্ সামা-ই, ওয়াহুয়াস্ সামী‘উল ‘আলীম

আবূ দাউদ, ৪/৩২৩,নং ৫০৮৮ তিরমিযী, ৫/৪৬৫,নং ৩৩৮৮

সকালে ও সন্ধ্যায়

তিন বার করে বলবেন

اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنْتَ

হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শরীরে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার শ্রবণশক্তিতে। হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপত্তা দিন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কুফরি ও দারিদ্র্য থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে। আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই।

আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাদানী, আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী সাম্‘ঈ আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাসারী। লা ইলা-হা ইল্লা আনতা। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিকা মিনাল কুফরি ওয়াল-ফাক্বরি ওয়া আ‘উযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি, লা ইলাহা ইল্লা আন্‌তা।

আবূ দাউদ ৪/৩২৪, নং ৫০৯২


সকালে ও সন্ধ্যায় একবার করে বলবেন

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَسْاَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَسْاَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَاَهْلِيْ، وَمَالِيْ، اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ، وَاٰمِنْ رَوْعَاتِيْ، اَللّٰهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَينِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِيْ، وَعَنْ يَّمِيْنِيْ، وَعَنْ شِمَالِيْ، وَمِنْ فَوْقِيْ، وَاَعُوْذُ بِعَظَمَتِكَ اَنْ اُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাচ্ছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়।

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের অসিলায় আশ্রয় চাই আমার নীচ থেকে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল- ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাতি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল-‘আ-ফিয়াতা ফী দীনী ওয়াদুনইয়াইয়া, ওয়া আহ্‌লী ওয়া মা-লী, আল্লা-হুম্মাসতুর ‘আওরা-তী ওয়া আ-মিন রাও‘আ-তি।

আল্লা-হুম্মাহফাযনী মিম্বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফী ওয়া ‘আন ইয়ামীনী ওয়া শিমা-লী ওয়া মিন ফাওকী। ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহ্‌তী

আবূ দাউদ, নং ৫০৭৪


বদনজরের রুক‌ইয়াহ

বদনজরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে রুক‌ইয়াহ বা ঝাঁড়-ফুকের সময় এই দোয়াটা পড়বেন।

بِسْمِ اللهِ أرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْكَ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أوْ عَيْنٍ حاَسِدٍ اللهُ يَشْفِيْكَ بِسْمِ اللهِ أرْقِيْكَ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিং কুল্লি শাইয়িন ইয়ুজিকা ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হা-সিদিন আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।

অর্থ : আল্লাহর নামে কষ্ট দানকারীর সব অনিষ্টতা থেকে তোমাকে ঝাঁড়-ফুক করছি। হিংসুক ব্যক্তির কুদৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নামে তোমাকে ঝাঁড়-ফুক করছি। আল্লাহ তোমাকের আরোগ্য দান করতে তারই নামে ঝাঁড়-ফুক করছি।’ (বুখারি ও মুসলিম)

بِسْمِ اللهِ يُبْرِيْكَ ومِنْ كُلِّ داَءٍ يَشْفِيْكَ، ومِنْ شَرِّ حاِسِدٍ إذاَ حَسَدَ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ ذِيْ عَيْنٍ

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি ইউবরিকা ওয়া মিন কুল্লি দাঈন ইয়াশফিকা, ওয়া মিন শাররি হাসাদিন ইজা হাসাদা, ওয়া মিন শাররি কুল্লি জি আইনিন।’

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, তিনি তোমাকে মুক্ত করুন, প্রত্যেক অসুখ থেকে আরোগ্য দান করুন, প্রত্যেক হিংসুকের হিংসা থেকে এবং প্রত্যেক বদনযরের অনিষ্ট থেকে (মুক্ত করুন)।’ (মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত মাসনুন আমলগুলো আদায় করার মাধ্যমে বদনজর তথা কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আর যারা বদনজরে আক্রান্ত তাদেরকে সুস্থতা দান করুন।’ আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *